Benefit of becoming an eCAB Member and the process

দেশে যতরকম এর বিজনেস সেক্টর আছে সেসব সেক্টরের ট্রেডবডি বা এসোসিয়েশন আছে। কোনো পেশাদার ব্যবসায়ী নগদ লাভের জন্য এসোসিয়েশন এর সদস্য হয়না। ট্রেড লাইসেন্স যেমন ব্যবসার আইনগত স্বীকৃতি তেমনি এসোসিয়েশন এর মেম্বারশিপ এই সেক্টরে একজন উদ্যোক্তার পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি। তবে এসোসিয়েশন এর সদস্য না হলেও ব্যবসা করতে কোনো বাঁধা নেই।

কোনো এসোসিয়েশন সদস্যদের সরাসরি ব্যবসা দেয়না বা টাকা দেয়না। এসোসিয়েশন ব্যবসার পরিবেশ সৃষ্টি, উদ্যোক্তাদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কাজ করে। ই-ক্যাবও তাই করছে। বর্তমানে ই-কমার্স সেক্টরে ঋণ সুবিধা না থাকলেও প্রাইম ব্যাংক থেকে ই-ক্যাব সদস্যদের বিনা জামানতে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরী হয়েছে। ই-কমার্স খাতে এখনো ভ্যাটের যে সুবিধা এই দাবী ই-ক্যাবই আদায় করেছে সরকারের কাছ থেকে।

কখনো সরকারী বা বেসরকারীখাতে বিভিন্ন ব্যবসায়িক সুবিধা পেতে এসোসিয়েশন এর সদস্য হতে হয়।

মেম্বার হয়ে যদি কোন উপকার না হয় তাহলে মেম্বার কেনো হবো? আমারো একই কথা। তাই আমি মেম্বার হওয়ার পূর্বে জেনে নিয়েছিলাম ইক্যাবের মেম্বার হয়ে কি লাভ হবে।

বিশ্বস্থতা অর্জনঃ ইকমার্স সেক্টরে সব থেকে বড় এসোসিয়েশন ইক্যাব, এতে কোন সন্দেহ নেই। যারা ইক্যাবের মেম্বার হয়, তাদের অফিস, ট্রেড লাইসেন্স, টিন সার্টিফিকেটসহ আরো অনেক ডকুমেন্ট সাবমিট করতে হয়। এগুলো ভারিভাই করার পর, মেম্বারশিপ দেওয়া হয়। তাই মেম্বার হলে মানুষ আপনাকে একটি লিগাল বিজনেস হিসেবে জানবে। কাস্টমারের বিশ্বস্থতা অর্জনে আপনি অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকবেন।

নেটওয়ার্কিংঃ যেকোনো সমিতি বা সংস্থার সাথে জড়িত থাকলে নেটওয়াকিং হয়। তাতে সমজাতীয় উদ্যেক্তারা একজন আরেকজনকে সহযোগিতা করতে পারে। আমরা সবাই একই পথে হাটছি, তাই আমাদের সমস্যাগুলোও প্রায় একই রকম। নেটওয়ার্কিং এর মাধ্যমে নিজের সমস্যাগুলো সমাধানের দারুন একটা সুযোগ করে দিচ্ছে ইক্যাব। মেম্বারদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং করার জন্য ইক্যাব পিকনিক, আড্ডা (অনলাইন ও অফলাইন) , সেমিনার এর আয়োজন করে। এছাড়া ২ লাখ ৩০+ মেম্বারের ফেসবুক গ্রূপ তো আছেই।

সরকার ও ব্যবসায়ীদের যোগাযোগের মাধ্যমঃ আমরা ইকমার্স সেক্টরে যেমন হাজারো সম্ভাবনা দেখি, এর সাথে সমস্যাও চোখে পরে। আমাদের সেই সমস্যাগুলো ইক্যাব সরকারের কাছে তুলে ধরে সমাধানের চেষ্টা করে। ইকমার্সের পলিসি, পেমেন্ট, ডেলিভারি, সিকিউরিটিসহ যাবতীয় বিষয়ের ডেলামেন্ট-এ ইক্যাব অনবরত কাজ করে যাচ্ছে। সরকার সম্প্রতি ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা ঘোষণা করেছে। ই-ক্যাবের কাছ থেকে অনেক বিষয়ে পরামর্শ নিয়েছে। আপনিও ই-ক্যাবের সাথে যুক্ত থাকলে সরকারকে বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দিতে পারবেন।

ট্রেনিং ও সেমিনারে অগ্রাধিকারঃ ইকমার্স বিজনেসকে সময় উপযোগি ও লাভজনক করতে ইক্যাব নিয়মিত ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করে। ইক্যাব-ই বাংলাদেশে প্রথম ইকমার্স বিষয়ক ট্রেইনিং চালু করে। ট্রেনিং প্রোগ্রামে মেম্বারদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এছাড়া নিয়মিত বিষয়ভিত্তিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেখানেও মেম্বারদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। মেম্বারদের উন্নয়নের জন্য ইক্যাব নিয়মিতভাবে ট্রেনিং, ওয়ার্কশপ ও সেমিনের আয়োজন করে থাকে। এপর্যন্ত ২০০০ এর বেশী উদ্যোতা ট্রেনিং নিয়েছে।

বিভিন্ন সার্ভিসে সুবিধাঃ এসএমএস, পেমেন্ট গেটওয়ে ছাড়াও আপনার আরো অনেক সার্ভিস এর প্রয়োজন হবে। ইক্যাব মেম্বার হিসেবে অন্যান্য মেম্বারদের কাছে এই সার্ভিসগুলোতে আপনি ডিসকাউন্ট পাবেন।

ডুয়েল কারেন্সি কার্ডঃ ই-ক্যাব সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষর করে থাকে। তাতে ই-ক্যাবের সদস্যদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করে। যেমন বর্তমানে এমটিবি বা মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ই-ক্যাবের সদস্যের জন্য ডুয়েল কারেন্সি কার্ডে বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে থাকে। এমন আরো অনেক সুবিধা রয়েছে।

ব্রান্ডিংঃ ইক্যাব বিভিন্ন সময়ে মেলার আয়োজন করে। একজন ইক্যাব মেম্বার হিসেবে মেলায় স্টল নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। এভাবে ইক্যাব আপনার প্রতিষ্ঠানের ব্রান্ডিং এর সুযোগ করে দিচ্ছে।

সর্বপরি ইক্যাবের সদস্য হয়ে বিভিন্ন ট্রেনিং, ওয়ার্কশপ, সেমিনারে অংশগ্রহন করে আপনি ইকমার্স ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে সবসময় আপটুডেট থাকতে পারছেন। নেটওয়ার্কিং এর সুযোগ ছাড়াও, ডুয়েল কারেন্সি কার্ড, বিনা জামানতে ব্যাংক লোন, ইক্যাবের অন্যন্য মেম্বার থেকে সার্ভিস গ্রহনের ক্ষেত্রে ডিসকাউন্ট, ব্যবসার গাইডলাইন, বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ই-পোষ্টের মাধ্যমে পন্য ডেলিভারির সুযোগ-সহ আরো অনেক সুবিধা পাবেন।

অনেক এসোসিয়েশন আছে। তাদের সদস্য না হলে সে সেক্টরে অনেক ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়না। ই-ক্যাবের ক্ষেত্রেও রয়েছে। কোভিডের কারণে যখন জরুরী অবস্থা ঘোষণা করা হয়। তখন শুধুমাত্র ই-ক্যাব কোম্পানীগুলোকে অনলাইন অপারেশন এর অনুমতি দেয়া হয়। আর সেজন্য দীর্ঘ ৫ বছর সদস্য না হলেও ১ মাসের মধ্যে সদস্য হয়েছে ইউনিলিভার, উবার, ফ্রেস (তানভীর ফুড), টিকে গ্রুপ (ওয়েল রিফাউনারী), আকিজ ফুড, আব্দুল মোনেম লিমিটেড, মমতাজ হারবালসহ দেশের সব শীর্ষ কোম্পানী।

কিভাবে সদস্য হবেন

ই-ক্যাবের সদস্য হওয়ার প্রক্রিয়া

প্রথমধাপ: ইক্যাবের ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেসন করা। নাম, ইমেইল ও পাসওয়ার্ড দিয়ে রেজিস্ট্রেসন করুন এই লিংকে ভিজিট করে http://registration.e-cab.net/

দ্বিতীয় ধাপ: লগিন করে মেম্বারশিপ ম্যানুতে ক্লিক করলে, নিউ মেম্বারশিপ অপসন পাবেন। যাবতীয় তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরন করুন করে সাবমিট করুন। যেহেতু ফর্ম এর ৬ টি স্টেপ। একবারেই পূরন করা সম্ভব না হলে, অসম্পূর্ন ফর্ম Save to Draft এ ক্লিক করে সেভ করে রাখতে পারবেন।

ই-ক্যাবের সদস্য হতে যেসব ডকুমেন্ট প্রয়োজন হবেঃ
১. প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স
২. মালিক বা প্রতিনিধির জাতীয় পরিচয়পত্র
৩. টিআইএন সার্টিফিকেট
৪. মালিক ও প্রতিনিধির ছবি
৫. ঠিকানা প্রমানের জন্য ইউটিলিটি বিলের কপি।
৬. কোম্পানীর লোগো
৭. অফিসের ছবি

তৃতীয় ধাপ: সকল তথ্য ঠিক থাকলে আপনার আবেদন গৃহিত হবে এবং ইমেইলে ইনভয়েস পাবেন।

চতুর্থ ধাপ: ইক্যাবের ওয়েবসাইটে লগিন করে Bills ম্যানুতে গেলে পেমেন্ট এর অপসন পাবেন। পেমেন্ট অনলাইনে করতে হবে। মোবাইল ব্যাংকিং অথবা ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে পেমেন্ট করতে পারবেন।

পঞ্চম ধাপ: ইমেইলে মেম্বারশিপ নম্বর ও সার্টিফিকেট পেয়ে যাবেন।

সময়ঃ ইক্যাব সাধারনত ৩ কার্যদিবস সময় নিয়ে থাকে।

মেম্বাশিপ ফি: ৫২০০ টাকা।
বার্ষিক রিনিউ ফিঃ ২২০০ টাকা
মেম্বারশিপ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে:
https://e-cab.net/membership/become-a-member/

Share this post

Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest
Share on print
Share on email

Related Post

Copyright 2019 © All rights Reserved.