২৫ শে মৃত্যু ৫০ শে কবর ও Stephen Duneier

প্রবাদে আছে আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই ২৫ বছর বয়সে মরে যায় আর ৫০ বছর বয়সে তার দেহটা কবর দেওয়া হয়। এমনটা বলার কারন? ২৫ বছর বয়সে গ্রাজুয়েসন কমপ্লিট করার আগে মনে কতই না স্বপ্ন থাকে। দেশের জন্য এই করবো, অমুক প্রজেক্টে কাজ করে অনেক মানুষের উপকার করবো, ভারসিটির ছোটদের জন্য এটা করবো ইত্যাদি।

কিন্তু গ্রাজুসন হয়ে গেলে, পরিবার থেকে চাপ আসে বিয়ে করতে হবে, চাকরি নিতে হবে। শুরু হয় চাকরি আর সংসার জীবন। স্বপ্ন গুলো উড়ে যায়। আর মানুষটাও মরে যায়।

Stephen Duneier এর ছোট ছোট সময় দিয়ে বাজিমাত!

 

তবে আমরা কি Stephen Duneier এর মত হতে পারি না? উনি আবার কি করলো? ওনার গল্পটা জেনে আসি

সে জীবনের অনেকটা সময় ধারাবাহিকভাবে একই রেজাল্ট করে এসেছে। কিন্ডারগারডেন থেকে শুরু  করে কলেজের সেকেন্ড ইয়ার পর্যন্ত তার রেজাল্ট ছিলো বরাবর C বা C- ! একদিন সে তার কাজের ধারায় একটু পরিবর্তন আনলো। ধরা যাক তার এ্যাসাইনমেন্ট হলো কোন বইয়ের ৫ টা চ্যাপ্টার পড়া। সে এই ৫ টা চ্যাপ্টারকে ভাগ করতো। কিভাবে? ৫ বা ১০ মিনিটে যতটুকু সে পড়তে পারে। এভাবে সে একবসায় সর্বোচ্চ ১০ মিনিট পড়তো তারপর ভিডিও গেম খেলা, ছবি আকাসহ যেসব কাজ করতে তার ভালো লাগতো সেগুলো করতো। ১০ মিনিট কেনো? সে এর থেকে বেশী সময় মনোযোগ ধরে রাখতে পারতো না।

সেই তখন থেকে শুরু করে গ্রাজুসন শেষ করা পর্যন্ত সেই একই ভাবে পড়াশুনা করলো। রেজাল্ট ? এবার সে C বা C- এর পরিবর্তে বারাবর A গ্রেড পেলো।

শুরু হলো ক্যারিয়ার, ২০০১ সাল। সে একই ফর্মূলা এপ্লাই করেই চললো। ফলাফল? সে Bank of America তে  Global head of currency option trading এর দায়িত্ত্ব পেলো একসময়। একই ভাবে সফল সেখানেও। তারপর যোগ দিলো AIG International এ। সেখানেও একই পদ পেলো সে।

এবার সে নামলো অন্য এক মিশনে। তার অফিস থেকে বাড়ি ফিরতে সময় লাগে ৪৫ মিনিট। iPod এ প্রতিদিন গান শুনতো সে। একদিন চিন্তা করলো আবার আগের থিওরি এপ্লাই করবে। সে জার্মান ল্যাংয়েজ শেখার  ৩৩ টা সিডি কিনলো, সেগুলোকে এমপিথ্রি করে তার iPod এ নিলো এবং প্রতিদিন শুনতে থাকলো। ১০ মাস পরে সে সর্বমোট ৯৯ টা সিডি শুনে ফেললো(প্রতিটি ৩ বার করে) । তারপর ১৬ দিনের একটা জার্মান ল্যাংয়েজ কোর্সে ভর্তি হলো। শিখে ফেললো জার্মান।

এখানেই শেষ না। প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় সে নিজের লক্ষ্য অর্জনের জন্য দিতে থাকলো। নিয়ে নিলো অটো রেসিং লাইসেন্স, হেলিকপ্টার চালানো শিখলো, পাহাড়ে ওঠা, স্কাইডাইভিং (হেলিকপ্টার থেকে লাফ দেয়া এবং পেরাসুটের সাহায্যে মাটিতে নামা)।২০০৭।এত কিছু শিখে ফেললো মাত্র ৬/৭ বছরে ! আর একটা কথা, সে কিন্তু প্রতিদিন দেড় ঘন্টা করে হাটতো!!! ওজন কমালে ২৫ পাউন্ড বা ১১ কেজি। বছর শেষ করলো পৃথীবির কঠিনত হাফ মেরাথন দি পিয়ার টু পিক  এ অংশ নিয়ে।

 

২০০৯। এর মধ্যে ৫০ টা বই পড়ে ফেলেছে সে।

২০১২। সে নতুন ১২ টা স্কিল ডেভেলাপ করার জন্য লিস্ট বানালো।

 

শিখে ফেললো। একদিন তার বউ বললো, তুমি সেলাইটাও শিখে ফেলো 🙂 । এটা শেখার তার তেমন আগ্রহ ছিলো না। কিন্তু একটা ট্রাই নিলো সে। গুগল করলো। সে yarn bombing শব্দটা খুজে পেলো। এটা হলো পাবলিক প্লেসের কোন কিছুকে সুতার কারুকার্য দিয়ে ঢেকে দেওয়া, যেমন গাছ বা হসপিটাল। তার পরের ৮২ দিন টানা সে এই কাজটা করে গেলো। হয়তো সে অপেক্ষা করছে কারো জন্য, সেলাই চলছে। মিটিং রুমে বসে আছে, মিটিং শুরু হতে দেরি হচ্ছে,সেলাই চলছে। এর মধ্যে সে অসুস্থ হয়ে হসপিটালে ছিলো, কিন্তু থেমে নেই সে, সেইয়ের কাজ চলছে।

 

৮২ দিন পর সে তার প্রথম প্রজেক্ট শেষ করলো। ছবিতে দেখুন সে কি করেছে।

সে থেমে নেই। একটা বাচ্চাদের হসপিটালকে সে মুড়িয়ে দিয়েছে তার সেলাই দিয়ে।

 

এখানেই শেষ না।২ বছর ৭ মাস ১৭ দিন কাজ করার পরে সে ৩০ মাইল লম্বা একটা সুতার কাজ তৈরী করে ফেললো। গিনিস বুকে নিজের নামটা উঠালো। বর্তমানে সে এই ক্যাটাগরিতে একমাত্র রেকর্ডধারী।

সবার জন্য ওনার উপদেশঃ যখন কারো জন্য অপেক্ষা করছি, ফেসবুকে অন্যের পোষ্ট দেখে যে সময়টা নষ্ট করতেছি বা অন্য যে কোনো কাজেই আপনি ব্যাস্ত থাকেন না কেনো, আপনার রুটিনের সাথে নিজের স্বপ্নের জন্য একটু মার্জিনাল এডজাস্টমেন্ট করেন(সামান্য সময় বের করে নেয়া)। প্রতিদিন একটু করে এগিয়ে যান। স্বপ্ন গুলো পূরন হবে।

 

তথ্যঃ উপরে উল্লেখিত তথ্যগুলো উনি এই ভিডিওটিতে সেয়ার করেছেন , যেটা TEDx ৬ মার্চ ২০১৭ সালে ইউটিউবে সেয়ার করেছে।

https://www.youtube.com/watch?v=TQMbvJNRpLE&list=WL

Share this post

Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest
Share on print
Share on email

Related Post

Copyright 2019 © All rights Reserved.