যেই ফিচারটি প্রত্যেকটি ইকমার্স ওয়েবসাইটে থাকা জরুরী

যাদের ই-কমার্স ওয়েবসাইট নেই, তারাও বিষয়টি জেনে রাখুন। ভবিষ্যতে অবশ্যই কাজে দিবে। 

 

যেই ফিচারটি নিয়ে কথা বলব সেটি, দারাজ বাংলাদেশ তাদের সেলারদের জন্য ইন্ট্রোডিউস করেছে এই মাসের 5 তারিখ (৫/০১/২০২০)। দারাজ টিমের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম, এই ফিচারটি এখনো বেটা অবস্থায় আছে অর্থাৎ এখনো ফিচারটির কাজ শেষ হয়নি, কাজ চলতেছে। দারাজ মূলত সেলার পারফরম্যান্স ড্যাশবোর্ড এর মাধ্যমে তাদের সেলারদেরকে তাদের সপে ভিজিটর গ্রোথ , অর্ডার গ্রোথ, প্রডাক্ট গ্রোথ, কনভার্শন গ্রোথ সহ আরো কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য দিচ্ছে। সবকিছু নিয়ে আজকে কথা বলবো না। শুধুমাত্র একটি ফিচার নিয়ে কথা বলবো। সেটি হল প্রোডাক্ট পারফরম্যান্স, যেটি প্রত্যেকটি ওয়েবসাইটে থাকা অত্যন্ত জরুরী। আমি তো বলতে চাই এটি ফরজ, মানে যা থাকতেই হবে।  

কেন এত জোর দিয়ে বলতেছি সেটা একটু পরেই বুঝতে পারবেন। 

 

ছবিতে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন, প্রোডাক্ট পারফরমেন্সে দেখাচ্ছে একটি প্রোডাক্ট কতবার ভিউ হয়েছে, কতজন অর্ডার করেছে, কনভার্শন রেট কত এবং টোটাল কত টাকা সেল জেনারেট হয়েছে। 

 

 

 

এখানে কনভার্শন  রেট বলতে বুঝানো হয়েছে প্রতি 100 জন মানুষের মধ্যে কতজন মানুষ আপনার প্রোডাক্টটি কিনেছে। ধরেন আপনার একটি প্রোডাক্ট 350 জন ভিউ করেছে। এর মধ্যে 15 জন প্রডাক্টটি  কিনেছে। তাহলে আপনার কনভার্শন রেট হবে (15/350) x 100 = 4.39% 

 

এবার বলি এই ফিচারটি আপনার ওয়েবসাইটে থাকলে কি লাভ? 

 

প্রথমত: কনভার্সন রেট দেখে আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন কোন প্রোডাক্টের মার্কেটিং এ ইনভেস্ট করা উচিত। ধরেন আপনি একজন ডিজিটাল ডিম বিক্রেতা, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ডিম বিক্রি করেন। ওয়েবসাইটে মুরগির ডিম ও হাঁসের ডিমের কনভার্শন রেট চেক করছেন। দেখলেন মুরগির ডিমের কনভার্শন রেট যদি 5% এবং হাঁসের ডিমের কনভার্শন রেট 15% । এখান থেকে আপনি সহজেই বুঝতেছেন যে বাজারে হাঁসের ডিমের চাহিদা বেশি। কারণ প্রতি 100 জনে 15 জন কিনতেছে হাঁসের ডিম এবং প্রতি 100 জনের মধ্যে 5 জন কিনতেছে মুরগির ডিম। এখন আপনার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়ে গেল আপনি ফেসবুকে মুরগির ডিমের অ্যাড চালাবেন নাকি হাঁসের ডিমের!

 

দ্বিতীয়তঃ যদি দেখেন কোন প্রোডাক্টের কনভার্শন রেট কম সেটা থেকেও আপনি বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ধরেন chaldal.com এর ওমর শরীফ ভাই বাজারে পেঁয়াজের স্বল্পতা দেখে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানী করলেন। নিয়ে আসলেন চায়না ও মিশরের পেঁয়াজ। উনি খেয়াল করলেন, চায়না পেঁয়াজ ভিউ করেছে 100 জন এবং কিনেছে 1 জন। তারমানে কনভার্শন রেট 1% । অপরদিকে মিশরের পেঁয়াজ ভিউ করেছে 300 জন, পেঁয়াজ কিনেছে 4 জন। তারমানে কনভার্শন রেট 1.33% । 

 

এদিকে দেশি পেঁয়াজ ভিউ করেছে 300 জন এবং কিনেছে 10 জন। কনভার্শন রেট 3.33%

 

এখান থেকে কি সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে?

চায়না পেঁয়াজের ভিউ কম এবং কনভার্সন রেট কম। যেহেতু ভিউ কম হচ্ছে তার মানে বাজারে এর চাহিদা কম। পরবর্তীতে শরিফ ভাই যখন পেঁয়াজ আমদানি করবেন তখন চায়না পেঁয়াজ পরিমানে কম আমদানি করবেন। 

 

মিশরের পেঁয়াজের ভিউ তুলনামূলক ঠিক আছে কিন্তু কনভার্সন কম হচ্ছে। তার মানে বাজারে চাহিদা আছে যেহেতু মানুষ ভিউ করতেছে। কিন্তু খুব কম সংখ্যক মানুষ কিনতেছে। তাহলে হয়তো প্রাইস একটু কমালে কনভার্শন বেড়ে যেতে পারে। বা হয়তো অন্য কোন জায়গায় যেমনঃ প্রডাক্টের বিবরনে পরিবর্তন আনলে, কনভার্সন রেট বেড়ে যেতে পারে।

 

এভাবে আপনিও কনভার্শন রেট দেখে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। 

 

পরিশেষে যাদের ইকমার্স ওয়েবসাইট আছে তারা এই ফিচারটি আপনার ওয়েবসাইটে ইন্টিগ্রেট করতে পারেন। আর যারা ই-কমার্স ওয়েবসাইট করবেন চিন্তা করতেছেন তারা বিষয়টি খেয়াল করবেন। 

 

মাঝে একটি কথা বলে নেই, অনেকেই নানান বিষয় উল্লেখ করে বলেন ওয়েবসাইটের প্রয়োজন নেই। আমিও আপনার সাথে একমত আসলেই ওয়েবসাইটের প্রয়োজন নাই। আপনি ফেসবুক দিয়ে দিব্যি ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবেন। শুধু আমি এখানে যে বিষয়ে পোস্ট দিয়েছি এই ধরনের সুযোগগুলো মিস করবেন।

 

কয়েক ঘণ্টা সময় দিয়ে পোস্টটি লেখা শেষ করলাম। আপনি কি পাঁচ সেকেন্ড সময় দিয়ে পোস্টটি শেয়ার করবেন? যারা ই-কমার্স বিজনেসে আছে বা আসবে তাদের প্রত্যেকেরই এই বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। 

 

এই লেখা পড়া উচিত এমন কারো কথা মাথায় আসলে ওনাকে মেনশন করতে পারেন। 

 

হেল্পফুল বা কিছু একটা লিখে কমেন্ট করে আপনার মতামত জানাবেন। এতে করে আমার সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে, এই ধরনের লেখা আরো লিখব কিনা।

 

Share this post

Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest
Share on print
Share on email

Related Post

Copyright 2019 © All rights Reserved.